বাজেটে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা পেলো আইসিটি বিভাগ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে রাষ্ট্রপতিকে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মঞ্জুর করেছে সংসদ। সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সংসদ সদস্যের ছাঁটাই প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে কণ্ঠ ভোটে এই বিলটি পাশ হয়।
বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু, বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেব নাথ এবং কুড়িগ্রাম ২ এর সংসদ সদস্য হামিদুল হক খন্দকার এই বিল ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তবে তাদের প্রস্তাবের বিপক্ষে যুক্তি খণ্ডন করে জুনাইদ আহমেদ পলক সংসদকে জানিয়েছেন, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৩ হাজার তরুণ-তরুণীকে দক্ষ আইটি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তৈরি করেছে। যার ফলে বাংলাদেশে এখন ৭ লাখ ফ্রিল্যান্সার রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে ১ বিলিয়নের ওপর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। এছাড়াও ১৩ কোটি মানুষের কাছে সুলভে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিয়েছে। গ্রাম পর্যন্ত ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দাম প্রতি এমবিপিএস ৬০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এই ধারাবাহিক সফলতায় শি-পাওয়ার প্রকল্পের অধীনে ১০ হাজার ৫০০ নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে হার পাওয়ার প্রকল্পের অধীনে নিজেরে এলকায় থেকে ঘরে বসে ২৫ হাজার নারী উদ্যোাক্তা যেন আইটি ফ্রিল্যান্সার, কলসেন্টার এজেন্ট হয়ে স্মার্ট কর্মসংস্থান করতে পারে সে জন্য আজকে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্যই এই পরিকল্পনা।
সমাপ্য অর্থ বছরের জন্য এই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলো। তবে বরাদ্দ প্রস্তাব উপস্থাপন করার পর, এ নিয়ে চারজন সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব দেন বলে জানন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। তবে সংসদে না রাজি দেয়া সাংসদদের মধ্যে ঠাঁকুরগাঁও ৩ এর সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন অনুপস্থিত ছিলেন। বাকি তিন সদস্য জানান, ছাঁটাই প্রস্তাবে ৫০০ টাকা কমাতে বলাটা প্রতীকি প্রতিবাদ।
সংসদে বরিশাল-৪ সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলার মানুষ ইনফো সরকার-২,৩ যাই হোক তা যায়নি। ব্রডব্যান্ড, ওয়্যারলেস কোনো ভাবেই সেখান ইন্টারনেট সংযোগ যায়নি। কাজ হচ্ছে। কিন্তু দোয়েলের বাক্স খুললে যদি চাইনিজ কম্পিউটার পাওয়া যায়-সেটা অপচয় না দুর্নীতি এবং এটি নিয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা পার্লামেন্ট জানতে চায়।
প্রস্তাবনা উত্থাপন করে বিরোধী দলের চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, লার্নিং আর্নিংয়ে অনেকেই আত্মস্থ করতে পারছে না। এখানে অনেক অপব্যয় হচ্ছ বলে আমি খবর নিয়েছি। অনেক স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব দেয়ার পরে এর ফলোআপ না থাকায় অনেক জায়গায় চলছে না। প্রধানমন্ত্রীর নামে যশোরে যে সফটওয়্যার পার্কটি স্থাপন করা হয়েছে তা স্থাপনের ৫ বছরের মধ্যে পথ হারিয়েছে। ২৬ জানুয়ারি পার্কটির দায়িত্বে থাকা কোম্পানি টেকসিটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে একটি থ্রি স্টার হোটেল ও রিসোর্ট তৈরি করেছে। টেকসিটি তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে খন প্রোপার্টিজ এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আইসিটি পার্কের ডরমেটরিকে হোটেল ও রিসোর্টে পরিণত করছে। অভিযোগ উঠেছে, এই পদক্ষেপ ব্যবসায়িক পরিবেশ নষ্ট করবে। বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে।
এস অভিযোগকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে উত্তরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সংসদ সদস্যদের সুপারিশ ও অনুরোধ ক্রমেই শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কলেজ ও স্কুলের ক্লাস শেষে সেখানে হার পাওয়ার প্রকল্পের অধীনে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। ৩৬ হাজার শিক্ষককে স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সন্ধ্যার পরে সেখানে স্থানীয় উদ্যোক্তারা যেন ওই অবকাঠামো ব্যবহার করে স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে সে জন্য আমরা উৎসাহ দিচ্ছি। তাই আমি অনুরোধ করবো তারাও যেনো এই কাজে অংশ নেন, খেয়াল করেন।
যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক নিয়ে তোলা অভিযোগ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই পার্কে ৪টি কমপোনেন্ট আছে। পার্কটি যেন চলমান থাকে এবং লোকসান না হয় সে জন্য আমরা একটি থার্ড পার্টিকে প্রোপারিট ম্যানেজমেন্ট কোম্পনি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। এজন্য তো সংসদ সদস্যদের এ ধরনের স্মার্ট অ্যাপ্রোচের জন্য প্রশংসা করা উচিত। এজন্যই যশোরে ৫ বছরে এক পয়সাও বিনিয়োগ করতে হয়নি। বরং আয় থেকে ১৮ শতাংশ লভ্যাংশ পাচ্ছি। সেখানে ১২০০ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে। আর ঢাকা বা বিদেশ থেকে যদি কোনো ক্লায়েন্ট সেখানে যায় সেজন্য ডরমেটরিতে ৮০টি রুম করা হয়েছিলো। কিন্তু দুই বছর পর দেখা গেলো এই রুমগুলো অনেকসময় কাজে লাগছে না। তাই সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করতেই স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অতিথিদের সেখানে থাকতে দেয়া হয়। তারা একটা সাবসিডাইস প্রাইস পায়। বাকি কোনো রুম ফাঁকা থাকলে বাইরের গেস্টকে ভাড়া দেয়ার অনুমতি আছে। যার মাধ্যমে এখানে সম্পদে সুষ্ঠু ব্যবহার হয়েছে।





